গাজায় বৃষ্টির ঢল ও ইসরায়েলি হামলা: যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭-১২-২০২৫ বিকাল ৭:৩৯
গাজায় বৃষ্টির ঢল ও ইসরায়েলি হামলা: যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়
মুষলধারে বৃষ্টি আর হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে গাজা উপত্যকায় মানবিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে আবহাওয়া আর অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জীবন এখন চরম সংকটে।
বৃষ্টির কবলে বিপর্যস্ত জনজীবন
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাতে গাজার বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় শিবিরগুলো প্লাবিত হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিনিধি তারেক আবু আযম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’। হাজার হাজার পরিবার প্লাস্টিকের শিট আর জীর্ণ কাপড় দিয়ে তৈরি তাঁবুতে কোনোমতে টিকে আছেন।
আশ্রয়হীনতা: ইসরায়েল তাঁবু তৈরির উপকরণ গাজায় প্রবেশ করতে না দেওয়ায় বৃষ্টির পানি ঠেকানোর কোনো উপায় নেই বাস্তুচ্যুতদের।
ধসের ঝুঁকি: বৃষ্টির তীব্রতায় ইসরায়েলি হামলায় আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভবনগুলো ধসে পড়ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আশ্রয় নিতে গিয়ে হতাহত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: নর্দমা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ায় চারদিকে কাদা ও দূষিত পানি জমে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও প্রাণহানি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল তা বারবার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলা: মঙ্গলবার ভোরে গাজা সিটির পূর্ব অংশে বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহতেও নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে।
হতাহত: গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১০ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল কয়েকশবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যাতে ৩৯১ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে।
আইসিসিতে ইসরায়েলের ধাক্কা
গাজা যুদ্ধের তদন্ত বন্ধে ইসরায়েলের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। সোমবার আদালতের আপিল বিভাগ ইসরায়েলের আইনি চ্যালেঞ্জ নাকচ করে দিয়ে জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর সংঘটিত সব অপরাধের তদন্ত করার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।
বারঘোতির মুক্তির দাবি
ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় নেতা মারওয়ান বারঘোতির মুক্তির দাবি পুনরায় জোরালো হয়েছে। কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস বলেছেন, বারঘোতির মুক্তি স্থায়ী শান্তির পথে একটি বিশ্বাসযোগ্য পথ খুলে দিতে পারে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা
গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশ্লেষক মুহানাদ সেলুম সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্বিতীয় পর্যায়ের চুক্তি দ্রুত কার্যকর না হয় এবং তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ চিহ্নিত করা না যায়, তবে মানবিক বিপর্যয় আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭-১২-২০২৫ বিকাল ৭:৩৯
মুষলধারে বৃষ্টি আর হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে গাজা উপত্যকায় মানবিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে আবহাওয়া আর অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জীবন এখন চরম সংকটে।
বৃষ্টির কবলে বিপর্যস্ত জনজীবন
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাতে গাজার বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় শিবিরগুলো প্লাবিত হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিনিধি তারেক আবু আযম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’। হাজার হাজার পরিবার প্লাস্টিকের শিট আর জীর্ণ কাপড় দিয়ে তৈরি তাঁবুতে কোনোমতে টিকে আছেন।
আশ্রয়হীনতা: ইসরায়েল তাঁবু তৈরির উপকরণ গাজায় প্রবেশ করতে না দেওয়ায় বৃষ্টির পানি ঠেকানোর কোনো উপায় নেই বাস্তুচ্যুতদের।
ধসের ঝুঁকি: বৃষ্টির তীব্রতায় ইসরায়েলি হামলায় আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভবনগুলো ধসে পড়ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আশ্রয় নিতে গিয়ে হতাহত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: নর্দমা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ায় চারদিকে কাদা ও দূষিত পানি জমে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও প্রাণহানি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল তা বারবার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলা: মঙ্গলবার ভোরে গাজা সিটির পূর্ব অংশে বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহতেও নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে।
হতাহত: গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১০ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল কয়েকশবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যাতে ৩৯১ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে।
আইসিসিতে ইসরায়েলের ধাক্কা
গাজা যুদ্ধের তদন্ত বন্ধে ইসরায়েলের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। সোমবার আদালতের আপিল বিভাগ ইসরায়েলের আইনি চ্যালেঞ্জ নাকচ করে দিয়ে জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর সংঘটিত সব অপরাধের তদন্ত করার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।
বারঘোতির মুক্তির দাবি
ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় নেতা মারওয়ান বারঘোতির মুক্তির দাবি পুনরায় জোরালো হয়েছে। কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস বলেছেন, বারঘোতির মুক্তি স্থায়ী শান্তির পথে একটি বিশ্বাসযোগ্য পথ খুলে দিতে পারে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা
গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশ্লেষক মুহানাদ সেলুম সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্বিতীয় পর্যায়ের চুক্তি দ্রুত কার্যকর না হয় এবং তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ চিহ্নিত করা না যায়, তবে মানবিক বিপর্যয় আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।