শিরোনামঃ
নির্বাচন নিরপেক্ষ না হলে প্রশ্ন উঠবে: ইসলামী আন্দোলনের আমির বিদ্যুৎ খাত দেউলিয়ার পথে: আদানি, সামিট ও এসএস পাওয়ার চুক্তিতে বিপুল আর্থিক ঝুঁকি স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যু: আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড, প্রশ্নের মুখে তদন্ত জেটিআই বাংলাদেশ দেশের নম্বর ওয়ান টপ এমপ্লয়ার হিসেবে স্বীকৃত মহিউদ্দিন খান খোকন: বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের এক নক্ষত্রের নাম কুমিল্লায় সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবাল পার্টনারস সামিট অনুষ্ঠিত পিনাকল হেলথ কেয়ারে নতুন ডেন্টাল ইউনিট ও হোম স্যাম্পল কালেকশন সার্ভিস আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ও শিক্ষার নতুন ভাবনা ওয়াহেদ মুরাদের গাড়িতে হামলার তদন্তে পুলিশ প্রত্যাবর্তনে বার্সেলোনা, জয় পেল চেলসিও

স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যু: আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড, প্রশ্নের মুখে তদন্ত

#
news image

আওয়ামী সরকারের পতনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এরপর থেকে তিনি যশোর কারাগারে বন্দি। গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান সেজাদ হাসান নাজিফকে।

স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পাননি সাদ্দাম। শনিবার সন্ধ্যায় স্বজনরা মরদেহ দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কারাগারে নিয়ে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের ছয় সদস্যসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাফটকে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। সেখানে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম।

সাদ্দামের ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভাই বাচ্চাকে কোলে নেয়নি। শুধু মাথায় হাত রেখে বলেছে— আমি ভালো বাবা, ভালো স্বামী হতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা করে দিও।’

সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা

ঘটনার পর সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কেউ দাবি করছেন, সাদ্দাম কারাগারে থাকায় অভাব ও মানসিক চাপের কারণে স্ত্রী সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। আবার কেউ দাবি করছেন, সাদ্দাম পলাতক অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় আত্মহত্যা করেছেন স্বর্ণালী। পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়াও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড—উঠছে প্রশ্ন

প্রথমদিকে স্থানীয়রা ধারণা করেন, স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে না পারার হতাশায় শিশুসন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন স্বর্ণালী। শুরুতে স্বর্ণালীর বাবা ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাও একই কথা বলেন।

স্বর্ণালীর ভাই শাহ নেওয়াজ আমিন শুভ প্রথমদিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন স্বামী কারাবন্দি থাকায় আমার বোন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। হতাশা থেকেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটেছে।’

তবে দুইদিন পর পরিবারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। রোববার দুপুরে শুভ বলেন, ‘আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। এখানে অনেক গ্যাপ রয়েছে। নামাজের পর প্রায় ৪০–৪৫ মিনিটের মধ্যে খবর পাই। তখন বাড়িতে কেউ ছিল না। অনেক তথ্য মিলছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুকে সাদ্দামের আরেকটি বিয়ের পোস্ট দেখেছি। এসব বিষয় সন্দেহ বাড়াচ্ছে।’

অন্যদিকে সাদ্দামের ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের সংসারে কোনো অভাব ছিল না। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টিও সঠিক নয়। কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ছড়াচ্ছে।’

হত্যা মামলা, তদন্তে পুলিশ

স্বর্ণালীর বাবা মো. রুহুল আমিন বাগেরহাট সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করলেও নাতিটা কীভাবে মারা গেল—সেটাই বড় প্রশ্ন। সত্যটা বের হোক।’

বাগেরহাট সদর থানার ওসি মো. মাসুম খান জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে স্বর্ণালীর শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শিশুটির ফুসফুস ও মস্তিষ্কে পানি এবং পাকস্থলীতে মায়ের বুকের দুধ পাওয়া গেছে, যা পানিতে ডুবে মৃত্যুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাগেরহাট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাকিয়া হক বলেন, ‘শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। পানিতে ডুবে গেলে এমন লক্ষণ দেখা যায়। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে—তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।’

প্যারোল না পাওয়া নিয়ে বিতর্ক

যশোর জেলা প্রশাসনের দাবি, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কোনো লিখিত আবেদন পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আবেদন করা হলেও এক জেলা থেকে অন্য জেলার দায়িত্বের কারণে প্যারোল দেওয়া হয়নি।

যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, ‘লিখিত বা মৌখিক কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।’
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘যে জেলায় বন্দি, প্যারোলের সিদ্ধান্ত সেই জেলার ম্যাজিস্ট্রেটের।’

১১ মামলার আসামি সাদ্দাম

২০২৫ সালের এপ্রিলে গ্রেপ্তার হওয়া সাদ্দামের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। পরিবার বলছে, দুটি মামলায় তিনি এজাহারনামীয় এবং বাকি মামলাগুলো রাজনৈতিক।

জানাজা ও দাফন

শনিবার রাত ১২টার দিকে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্বর্ণালীর বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মা ও সন্তানকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। এর আগে ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫-১-২০২৬ রাত ১১:২৭

news image

আওয়ামী সরকারের পতনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এরপর থেকে তিনি যশোর কারাগারে বন্দি। গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান সেজাদ হাসান নাজিফকে।

স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পাননি সাদ্দাম। শনিবার সন্ধ্যায় স্বজনরা মরদেহ দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কারাগারে নিয়ে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের ছয় সদস্যসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাফটকে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। সেখানে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম।

সাদ্দামের ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভাই বাচ্চাকে কোলে নেয়নি। শুধু মাথায় হাত রেখে বলেছে— আমি ভালো বাবা, ভালো স্বামী হতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা করে দিও।’

সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা

ঘটনার পর সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কেউ দাবি করছেন, সাদ্দাম কারাগারে থাকায় অভাব ও মানসিক চাপের কারণে স্ত্রী সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। আবার কেউ দাবি করছেন, সাদ্দাম পলাতক অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় আত্মহত্যা করেছেন স্বর্ণালী। পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়াও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড—উঠছে প্রশ্ন

প্রথমদিকে স্থানীয়রা ধারণা করেন, স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে না পারার হতাশায় শিশুসন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন স্বর্ণালী। শুরুতে স্বর্ণালীর বাবা ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাও একই কথা বলেন।

স্বর্ণালীর ভাই শাহ নেওয়াজ আমিন শুভ প্রথমদিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন স্বামী কারাবন্দি থাকায় আমার বোন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। হতাশা থেকেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটেছে।’

তবে দুইদিন পর পরিবারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। রোববার দুপুরে শুভ বলেন, ‘আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। এখানে অনেক গ্যাপ রয়েছে। নামাজের পর প্রায় ৪০–৪৫ মিনিটের মধ্যে খবর পাই। তখন বাড়িতে কেউ ছিল না। অনেক তথ্য মিলছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুকে সাদ্দামের আরেকটি বিয়ের পোস্ট দেখেছি। এসব বিষয় সন্দেহ বাড়াচ্ছে।’

অন্যদিকে সাদ্দামের ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের সংসারে কোনো অভাব ছিল না। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টিও সঠিক নয়। কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ছড়াচ্ছে।’

হত্যা মামলা, তদন্তে পুলিশ

স্বর্ণালীর বাবা মো. রুহুল আমিন বাগেরহাট সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করলেও নাতিটা কীভাবে মারা গেল—সেটাই বড় প্রশ্ন। সত্যটা বের হোক।’

বাগেরহাট সদর থানার ওসি মো. মাসুম খান জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে স্বর্ণালীর শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শিশুটির ফুসফুস ও মস্তিষ্কে পানি এবং পাকস্থলীতে মায়ের বুকের দুধ পাওয়া গেছে, যা পানিতে ডুবে মৃত্যুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাগেরহাট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাকিয়া হক বলেন, ‘শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। পানিতে ডুবে গেলে এমন লক্ষণ দেখা যায়। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে—তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।’

প্যারোল না পাওয়া নিয়ে বিতর্ক

যশোর জেলা প্রশাসনের দাবি, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কোনো লিখিত আবেদন পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আবেদন করা হলেও এক জেলা থেকে অন্য জেলার দায়িত্বের কারণে প্যারোল দেওয়া হয়নি।

যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, ‘লিখিত বা মৌখিক কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।’
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘যে জেলায় বন্দি, প্যারোলের সিদ্ধান্ত সেই জেলার ম্যাজিস্ট্রেটের।’

১১ মামলার আসামি সাদ্দাম

২০২৫ সালের এপ্রিলে গ্রেপ্তার হওয়া সাদ্দামের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। পরিবার বলছে, দুটি মামলায় তিনি এজাহারনামীয় এবং বাকি মামলাগুলো রাজনৈতিক।

জানাজা ও দাফন

শনিবার রাত ১২টার দিকে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্বর্ণালীর বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মা ও সন্তানকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। এর আগে ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।