শিরোনামঃ
নির্বাচন নিরপেক্ষ না হলে প্রশ্ন উঠবে: ইসলামী আন্দোলনের আমির বিদ্যুৎ খাত দেউলিয়ার পথে: আদানি, সামিট ও এসএস পাওয়ার চুক্তিতে বিপুল আর্থিক ঝুঁকি স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যু: আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড, প্রশ্নের মুখে তদন্ত জেটিআই বাংলাদেশ দেশের নম্বর ওয়ান টপ এমপ্লয়ার হিসেবে স্বীকৃত মহিউদ্দিন খান খোকন: বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের এক নক্ষত্রের নাম কুমিল্লায় সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবাল পার্টনারস সামিট অনুষ্ঠিত পিনাকল হেলথ কেয়ারে নতুন ডেন্টাল ইউনিট ও হোম স্যাম্পল কালেকশন সার্ভিস আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ও শিক্ষার নতুন ভাবনা ওয়াহেদ মুরাদের গাড়িতে হামলার তদন্তে পুলিশ প্রত্যাবর্তনে বার্সেলোনা, জয় পেল চেলসিও

বিদ্যুৎ খাত দেউলিয়ার পথে: আদানি, সামিট ও এসএস পাওয়ার চুক্তিতে বিপুল আর্থিক ঝুঁকি

#
news image

বিদ্যুৎ খাতে অসম ও অন্যায্য চুক্তির কারণে বাংলাদেশ ক্রমেই গভীর আর্থিক সংকটে পড়ছে। আদানি পাওয়ার, সামিট কর্পোরেশন ও এসএস পাওয়ারের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে কার্যত “দেউলিয়ার পথে” ঠেলে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) পরিশোধিত অর্থ ১১ গুণ বেড়েছে, অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে মাত্র চার গুণ। বর্তমানে পিডিবি বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনছে এবং ২০২৫ অর্থবছরে বকেয়া দায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার মাত্র ৪০–৫০ শতাংশ। এই অতিরিক্ত সক্ষমতার কারণে প্রতিবছর ৯০০ মিলিয়ন থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। ঘাটতি সামাল দিতে হলে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৮৬ শতাংশ বাড়াতে হবে, যা হলে বাংলাদেশ ভারত, চীন, ভিয়েতনাম ও শ্রীলংকার সঙ্গে শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সামিট কর্পোরেশনের সঙ্গে করা চুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। মেঘনাঘাট-২ প্রকল্পে গ্যাস না থাকা সত্ত্বেও ডিজেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে, ফলে ইউনিট খরচ বেড়ে গেছে গ্যাসভিত্তিক ব্যয়ের প্রায় চার গুণেরও বেশি।

এছাড়া বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তিতে গুরুতর কাঠামোগত অসামঞ্জস্য রয়েছে। ২০২৪ সালের হিসাবে শুধু ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বাবদ বছরে প্রায় ৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। ২৫ বছরের চুক্তি মেয়াদে এই অঙ্ক দাঁড়াতে পারে ১ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন টাকা।

কমিটির মতে, এসব চুক্তির ‘টেক-অর-পে’, ‘পাস-থ্রু’ ও ‘ট্রু-আপ’ শর্তের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি, ডলারের দর বৃদ্ধি ও কর ঝুঁকি পুরোপুরি সরকারের ঘাড়ে চাপানো হয়েছে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।

ডেস্ক রিপোর্ট

২৫-১-২০২৬ রাত ১১:৩২

news image

বিদ্যুৎ খাতে অসম ও অন্যায্য চুক্তির কারণে বাংলাদেশ ক্রমেই গভীর আর্থিক সংকটে পড়ছে। আদানি পাওয়ার, সামিট কর্পোরেশন ও এসএস পাওয়ারের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে কার্যত “দেউলিয়ার পথে” ঠেলে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) পরিশোধিত অর্থ ১১ গুণ বেড়েছে, অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে মাত্র চার গুণ। বর্তমানে পিডিবি বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনছে এবং ২০২৫ অর্থবছরে বকেয়া দায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার মাত্র ৪০–৫০ শতাংশ। এই অতিরিক্ত সক্ষমতার কারণে প্রতিবছর ৯০০ মিলিয়ন থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। ঘাটতি সামাল দিতে হলে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৮৬ শতাংশ বাড়াতে হবে, যা হলে বাংলাদেশ ভারত, চীন, ভিয়েতনাম ও শ্রীলংকার সঙ্গে শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সামিট কর্পোরেশনের সঙ্গে করা চুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। মেঘনাঘাট-২ প্রকল্পে গ্যাস না থাকা সত্ত্বেও ডিজেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে, ফলে ইউনিট খরচ বেড়ে গেছে গ্যাসভিত্তিক ব্যয়ের প্রায় চার গুণেরও বেশি।

এছাড়া বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তিতে গুরুতর কাঠামোগত অসামঞ্জস্য রয়েছে। ২০২৪ সালের হিসাবে শুধু ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বাবদ বছরে প্রায় ৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। ২৫ বছরের চুক্তি মেয়াদে এই অঙ্ক দাঁড়াতে পারে ১ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন টাকা।

কমিটির মতে, এসব চুক্তির ‘টেক-অর-পে’, ‘পাস-থ্রু’ ও ‘ট্রু-আপ’ শর্তের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি, ডলারের দর বৃদ্ধি ও কর ঝুঁকি পুরোপুরি সরকারের ঘাড়ে চাপানো হয়েছে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।