শিরোনামঃ
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’-এর অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ, জবাবদিহি ও সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান বাঘারপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ দিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম ক্রীড়াঙ্গনে পরিবর্তনের মশাল জ্বালিয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটি চিকিৎসাসেবা থেকে শিক্ষা সহায়তা: জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭ বছর বসুন্ধরা গ্রুপের উপহারে ১০০ নারীর হাতে স্বাবলম্বিতার হাতিয়ার গাড়ির বাজার ও দুই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে মুখর আইসিসিবি তামাকজনিত মৃত্যু কমাতে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের আহ্বান  দেবী দুর্গার মহিমা ও নারীশক্তির বন্দনায় প্রকাশিত ‘মহাদুর্গা’

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ, জবাবদিহি ও সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

#
news image

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর উদ্যোগে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কাকরাইলে নিসচার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালি ও পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বিদ্যমান আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি এবং সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

র‍্যালিতে নিসচার উপদেষ্টা, আজীবন সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নানা শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল সবার জন্য বাংলাদেশ, নিসচা মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা ঢাকা জেলা, বাংলাদেশ সাইকেল লেন, নিসচা ধামরাই উপজেলা শাখা, নিসচা পলাশ উপজেলা শাখা, নিসচা নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা লৌহজং উপজেলা শাখা, নিসচা শিবপুর উপজেলা শাখা, নিসচা সাভার উপজেলা শাখা এবং নিসচা ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা।

র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কমাতে সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পরিবহন খাত, গণমাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য ঘটনা নয়। পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ, আইন ও বিধির কার্যকর প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ জন্য সড়ক নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নিয়মিত ও সমন্বিত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তাঁরা বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস, সড়কের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণ, পথচারীদের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; আইন বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং অনিয়মের জন্য দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের র‍্যালি ও সমাবেশ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিসচার পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

১. সড়ক নিরাপত্তা আইন ও বিধির কার্যকর প্রয়োগ: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালানো, ভুল পথে চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বহন এবং যানবাহনের কাগজপত্র ও ফিটনেসসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. চালকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করা: পেশাদার চালকদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা যাচাই, পরীক্ষা এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি চালকদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ক্লান্তি ও অদক্ষতাজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।

৩. যানবাহনের ফিটনেস ও নিরাপত্তা তদারকি: যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহীসহ সব ধরনের যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ, চলাচলের অনুপযোগী ও অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. সড়ক ও অবকাঠামো নিরাপদ করা: ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, অপর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত সাইন-সিগন্যাল এবং বিপজ্জনক প্রবেশপথ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করতে হবে। সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে চালক, যাত্রী, পথচারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

৫. পথচারী ও যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনীয় স্থানে জেব্রা ক্রসিং ও ট্রাফিক সংকেত স্থাপন এবং বাসস্টপ ও যাত্রী ওঠানামার স্থান সুশৃঙ্খল করতে হবে। স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও জনবহুল এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

৬. গতিসীমা ও ঝুঁকিপূর্ণ চালনা নিয়ন্ত্রণ: সড়কের ধরন ও পরিবেশ অনুযায়ী উপযুক্ত গতিসীমা নির্ধারণ এবং তা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে। অতিরিক্ত গতিতে চলাচলকারী যানবাহন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে।

৭. দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা জোরদার: সড়ক দুর্ঘটনার স্থান, সময়, ধরন ও কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং নিয়মিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে।

৮. দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা: দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, জরুরি চিকিৎসা এবং উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

৯. সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষার বিস্তার: বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে। চালক, হেলপার, যাত্রী, পথচারী ও পরিবহন মালিকদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

১০. সমন্বিত উদ্যোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা: সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা এবং জনগণের কাছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। চালককে সতর্ক ও নিয়ম মেনে গাড়ি চালাতে হবে, যাত্রীকে নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করতে হবে, পথচারীকে সচেতনভাবে চলাচল করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ ও ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁরা আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া একটি মানবিক দায়িত্ব। প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান, তদন্তের ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং একই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের কর্মসূচি থেকে নিসচার পক্ষ থেকে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সড়ক আইন মেনে চলা, নিরাপদ গতিতে যানবাহন চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করা এবং সড়কে অন্যের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি বাস্তবসম্মত, ধারাবাহিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য— ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক সড়কব্যবস্থা।

অনলাইন ডেস্ক

২২-১০-২০২৬ দুপুর ৪:২৮

news image

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর উদ্যোগে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কাকরাইলে নিসচার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালি ও পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বিদ্যমান আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি এবং সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

র‍্যালিতে নিসচার উপদেষ্টা, আজীবন সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নানা শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল সবার জন্য বাংলাদেশ, নিসচা মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা ঢাকা জেলা, বাংলাদেশ সাইকেল লেন, নিসচা ধামরাই উপজেলা শাখা, নিসচা পলাশ উপজেলা শাখা, নিসচা নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা লৌহজং উপজেলা শাখা, নিসচা শিবপুর উপজেলা শাখা, নিসচা সাভার উপজেলা শাখা এবং নিসচা ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা।

র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কমাতে সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পরিবহন খাত, গণমাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য ঘটনা নয়। পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ, আইন ও বিধির কার্যকর প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ জন্য সড়ক নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নিয়মিত ও সমন্বিত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তাঁরা বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস, সড়কের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণ, পথচারীদের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; আইন বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং অনিয়মের জন্য দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের র‍্যালি ও সমাবেশ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিসচার পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

১. সড়ক নিরাপত্তা আইন ও বিধির কার্যকর প্রয়োগ: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালানো, ভুল পথে চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বহন এবং যানবাহনের কাগজপত্র ও ফিটনেসসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. চালকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করা: পেশাদার চালকদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা যাচাই, পরীক্ষা এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি চালকদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ক্লান্তি ও অদক্ষতাজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।

৩. যানবাহনের ফিটনেস ও নিরাপত্তা তদারকি: যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহীসহ সব ধরনের যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ, চলাচলের অনুপযোগী ও অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. সড়ক ও অবকাঠামো নিরাপদ করা: ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, অপর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত সাইন-সিগন্যাল এবং বিপজ্জনক প্রবেশপথ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করতে হবে। সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে চালক, যাত্রী, পথচারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

৫. পথচারী ও যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনীয় স্থানে জেব্রা ক্রসিং ও ট্রাফিক সংকেত স্থাপন এবং বাসস্টপ ও যাত্রী ওঠানামার স্থান সুশৃঙ্খল করতে হবে। স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও জনবহুল এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

৬. গতিসীমা ও ঝুঁকিপূর্ণ চালনা নিয়ন্ত্রণ: সড়কের ধরন ও পরিবেশ অনুযায়ী উপযুক্ত গতিসীমা নির্ধারণ এবং তা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে। অতিরিক্ত গতিতে চলাচলকারী যানবাহন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে।

৭. দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা জোরদার: সড়ক দুর্ঘটনার স্থান, সময়, ধরন ও কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং নিয়মিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে।

৮. দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা: দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, জরুরি চিকিৎসা এবং উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

৯. সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষার বিস্তার: বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে। চালক, হেলপার, যাত্রী, পথচারী ও পরিবহন মালিকদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

১০. সমন্বিত উদ্যোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা: সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা এবং জনগণের কাছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। চালককে সতর্ক ও নিয়ম মেনে গাড়ি চালাতে হবে, যাত্রীকে নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করতে হবে, পথচারীকে সচেতনভাবে চলাচল করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ ও ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁরা আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া একটি মানবিক দায়িত্ব। প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান, তদন্তের ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং একই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের কর্মসূচি থেকে নিসচার পক্ষ থেকে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সড়ক আইন মেনে চলা, নিরাপদ গতিতে যানবাহন চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করা এবং সড়কে অন্যের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি বাস্তবসম্মত, ধারাবাহিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য— ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক সড়কব্যবস্থা।