বাঘারপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক
২১-১০-২০২৬ রাত ১:৭
বাঘারপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ৮ নম্বর বাসুয়াড়ী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদিত ডিলার মেসার্স হাবিবুর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. হাবিবুর রহমানের বৈধ গুদামঘর না থাকা, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সফল কৃষি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাজ্জাদ হোসেন। এসব অভিযোগ তদন্ত করে নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে গত সোমবার যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন সাজ্জাদ হোসেন। আবেদনে মেসার্স হাবিবুর ট্রেডার্সের গুদামঘরের বৈধতা ও স্বত্বাধিকারীর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে সাজ্জাদ হোসেন উল্লেখ করেন, বাঘারপাড়া উপজেলার ৮ নম্বর বাসুয়াড়ী ইউনিয়নে অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স হাবিবুর ট্রেডার্সের নিজস্ব কিংবা বৈধভাবে ভাড়া নেওয়া কোনো গুদামঘর নেই। কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে গুদামঘর হিসেবে চাড়াভিটা স্কুলের ১৫ নম্বর দোকান দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা গেছে, দোকানটি অন্য এক ব্যবসায়ী জুলফিক্কারের নামে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ রয়েছে।
আবেদনে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর সমর্থনে মামলার এফআইআর ও জিআর নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার দারুসসালাম থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা রয়েছে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নীলফামারীর ডিমলা থানায় ২০১৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা হওয়ার তথ্যও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সার ডিলার নিয়োগের শর্তের কথা উল্লেখ করে আবেদনকারী দাবি করেন, ডিলারশিপের জন্য নিজস্ব অথবা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ভিত্তিতে উপযুক্ত গুদামঘর থাকা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, হাবিবুর ট্রেডার্সের ক্ষেত্রে এ শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করা হয়নি। সম্প্রতি রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নামে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবেদনে হাবিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে ডিলারশিপ নেওয়া হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এলাকা বাসির আশঙ্কা, অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত ছাড়া ডিলারশিপ কার্যক্রম চলতে থাকলে এলাকায় সারের সরবরাহ ও কৃষকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
তাই সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে গুদামঘরের বৈধতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য কৃষি বিভাগের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তবে, এসকল অভিযোগ অস্বীকার করছেন হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আমার নামে মামলা দিয়েছে। আমার বৈধ্য লাইন্সেস ও গোডাউন আছে। রাজনৈতিক কারণে এই অভিযোগ গুলো আমার বিরুদ্ধে ছড়ানো হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক
২১-১০-২০২৬ রাত ১:৭
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ৮ নম্বর বাসুয়াড়ী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদিত ডিলার মেসার্স হাবিবুর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. হাবিবুর রহমানের বৈধ গুদামঘর না থাকা, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সফল কৃষি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাজ্জাদ হোসেন। এসব অভিযোগ তদন্ত করে নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে গত সোমবার যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন সাজ্জাদ হোসেন। আবেদনে মেসার্স হাবিবুর ট্রেডার্সের গুদামঘরের বৈধতা ও স্বত্বাধিকারীর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে সাজ্জাদ হোসেন উল্লেখ করেন, বাঘারপাড়া উপজেলার ৮ নম্বর বাসুয়াড়ী ইউনিয়নে অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স হাবিবুর ট্রেডার্সের নিজস্ব কিংবা বৈধভাবে ভাড়া নেওয়া কোনো গুদামঘর নেই। কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে গুদামঘর হিসেবে চাড়াভিটা স্কুলের ১৫ নম্বর দোকান দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা গেছে, দোকানটি অন্য এক ব্যবসায়ী জুলফিক্কারের নামে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ রয়েছে।
আবেদনে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর সমর্থনে মামলার এফআইআর ও জিআর নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার দারুসসালাম থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা রয়েছে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নীলফামারীর ডিমলা থানায় ২০১৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা হওয়ার তথ্যও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সার ডিলার নিয়োগের শর্তের কথা উল্লেখ করে আবেদনকারী দাবি করেন, ডিলারশিপের জন্য নিজস্ব অথবা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ভিত্তিতে উপযুক্ত গুদামঘর থাকা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, হাবিবুর ট্রেডার্সের ক্ষেত্রে এ শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করা হয়নি। সম্প্রতি রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নামে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবেদনে হাবিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে ডিলারশিপ নেওয়া হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এলাকা বাসির আশঙ্কা, অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত ছাড়া ডিলারশিপ কার্যক্রম চলতে থাকলে এলাকায় সারের সরবরাহ ও কৃষকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
তাই সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে গুদামঘরের বৈধতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য কৃষি বিভাগের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তবে, এসকল অভিযোগ অস্বীকার করছেন হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আমার নামে মামলা দিয়েছে। আমার বৈধ্য লাইন্সেস ও গোডাউন আছে। রাজনৈতিক কারণে এই অভিযোগ গুলো আমার বিরুদ্ধে ছড়ানো হচ্ছে।