আদিবাসী নারী হত্যাকে কেন্দ্র করে ওড়িশায় উত্তেজনা: বাঙালিদের ৬০টি বাড়িতে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি
ডেস্ক রিপোর্ট
৯-১২-২০২৫ রাত ১১:১১
আদিবাসী নারী হত্যাকে কেন্দ্র করে ওড়িশায় উত্তেজনা: বাঙালিদের ৬০টি বাড়িতে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি
ভারতে ওড়িশার প্রত্যন্ত মালকানগিরি জেলায় এক আদিবাসী নারীকে খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ জাতিগত সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের একটি দল স্থানীয় বাঙালি অধ্যুষিত একটি গ্রামে হামলা চালিয়ে প্রায় ৬০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। প্রাণ বাঁচাতে আতঙ্কিত বাঙালি বাসিন্দারা গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার মালকানগিরির এমভি-২৬ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পোতেরু নদী থেকে পদিয়ামি (৫৫) নামের এক আদিবাসী নারীর মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধারের পর উত্তেজনা ছড়ায়। নিহত পদিয়ামি কোয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দা ছিলেন।
আদিবাসীরা অভিযোগ করেছেন যে জমি সংক্রান্ত মনোমালিন্যের জেরে নদীর পাশের জমির মালিক সুকুমার মণ্ডল নামে এক বাঙালি কৃষক ও তাঁর পরিচিতরা ওই নারীকে অপহরণ ও খুন করেছেন। যদিও সুকুমার মণ্ডল এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
ঘটনার জেরে গত রোববার দুপুরেই প্রায় পাঁচ হাজার আদিবাসী কুড়াল, তলোয়ার, তীর-ধনুক নিয়ে এমভি-২৬ গ্রামে হামলা চালায়। তারা একের পর এক ৬০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং ঘরের জিনিসপত্র, পশু ও যানবাহন জ্বালিয়ে দেয়।
এমভি-২৬ গ্রামের বাসিন্দা সত্যজিৎ হালদার হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, হাজার হাজার আদিবাসী মানুষ যখন হামলা চালায়, তখন মনে হচ্ছিল আর কেউ প্রাণে বাঁচবে না।
অভিযোগ উঠেছে, রোববারের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিএসএফ মোতায়েন করা হলেও, সোমবার পুলিশের সামনেই আদিবাসীরা ফের বাঙালি গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িতে বাড়িতে আগুন দেয়। এ সময় পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল বলে বাঙালি বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।
মালকানগিরির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিনোদ পাটিল জানিয়েছেন, আদিবাসী নারীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শুভ রঞ্জন মণ্ডল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করার পর পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে ওড়িশা পুলিশের দক্ষিণ পশ্চিম শাখার আইজি কানোয়াল বিশাল সিং জেলা প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে শান্তি বৈঠক করেছেন। এছাড়া, গ্রামের ১০ কিলোমিটার বৃত্তে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
এদিকে, গ্রামের বাঙালি বাসিন্দারা নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে কালেক্টর অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। অন্যদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় ওড়িশা সরকার ঘোষণা করেছে, মালকানগিরি জেলায় আগামী ২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট
৯-১২-২০২৫ রাত ১১:১১
ভারতে ওড়িশার প্রত্যন্ত মালকানগিরি জেলায় এক আদিবাসী নারীকে খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ জাতিগত সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের একটি দল স্থানীয় বাঙালি অধ্যুষিত একটি গ্রামে হামলা চালিয়ে প্রায় ৬০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। প্রাণ বাঁচাতে আতঙ্কিত বাঙালি বাসিন্দারা গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার মালকানগিরির এমভি-২৬ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পোতেরু নদী থেকে পদিয়ামি (৫৫) নামের এক আদিবাসী নারীর মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধারের পর উত্তেজনা ছড়ায়। নিহত পদিয়ামি কোয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দা ছিলেন।
আদিবাসীরা অভিযোগ করেছেন যে জমি সংক্রান্ত মনোমালিন্যের জেরে নদীর পাশের জমির মালিক সুকুমার মণ্ডল নামে এক বাঙালি কৃষক ও তাঁর পরিচিতরা ওই নারীকে অপহরণ ও খুন করেছেন। যদিও সুকুমার মণ্ডল এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
ঘটনার জেরে গত রোববার দুপুরেই প্রায় পাঁচ হাজার আদিবাসী কুড়াল, তলোয়ার, তীর-ধনুক নিয়ে এমভি-২৬ গ্রামে হামলা চালায়। তারা একের পর এক ৬০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং ঘরের জিনিসপত্র, পশু ও যানবাহন জ্বালিয়ে দেয়।
এমভি-২৬ গ্রামের বাসিন্দা সত্যজিৎ হালদার হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, হাজার হাজার আদিবাসী মানুষ যখন হামলা চালায়, তখন মনে হচ্ছিল আর কেউ প্রাণে বাঁচবে না।
অভিযোগ উঠেছে, রোববারের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিএসএফ মোতায়েন করা হলেও, সোমবার পুলিশের সামনেই আদিবাসীরা ফের বাঙালি গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িতে বাড়িতে আগুন দেয়। এ সময় পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল বলে বাঙালি বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।
মালকানগিরির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিনোদ পাটিল জানিয়েছেন, আদিবাসী নারীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শুভ রঞ্জন মণ্ডল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করার পর পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে ওড়িশা পুলিশের দক্ষিণ পশ্চিম শাখার আইজি কানোয়াল বিশাল সিং জেলা প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে শান্তি বৈঠক করেছেন। এছাড়া, গ্রামের ১০ কিলোমিটার বৃত্তে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
এদিকে, গ্রামের বাঙালি বাসিন্দারা নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে কালেক্টর অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। অন্যদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় ওড়িশা সরকার ঘোষণা করেছে, মালকানগিরি জেলায় আগামী ২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।