শিরোনামঃ
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির বাস্কেটবল কোর্ট পরিদর্শনে ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মুগদায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মাদকবিরোধী আলোচনা ও শপথ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি: মৌলভীবাজারে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ  মিরপুরে প্রতিবন্ধী বেলু ও অসহায় শাহানার পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন দেশবাসীর কাছে দোয়া চায় বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধি না করাসহ পাঁচ দাবিতে পাবনায় শ্রমিকদের মানববন্ধন জুয়ার আগুনে পুড়ছে জীবন, কার্যকর উদ্যোগ শূন্য মোতালেব প্লাজা দখলচেষ্টার অভিযোগ গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিধ্বস্ত রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বগুড়ায় সেলাই মেশিন বিতরণ

৫০০ বছর পর রাজা ও পোপের যৌথ প্রার্থনা: ইতিহাসের বিভাজন ঘুচছে কি?

#
news image

ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় লিখলেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও পোপ লিও। প্রায় পাঁচ শতাব্দী পর, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) তারা ভ্যাটিকানের সিস্টিন চ্যাপেলে একসঙ্গে প্রার্থনা করেন।

১৫৩৪ সালে রাজা হেনরি অষ্টম ইংল্যান্ডকে রোমান ক্যাথলিক চার্চ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ রাজা ও পোপ যৌথ প্রার্থনায় অংশ নিলেন।

সেই সময় থেকেই ক্যাথলিক ও অ্যাংলিকান চার্চের মধ্যে শত্রুতা ও বিভাজনের সূচনা হয়। হেনরি অষ্টমের স্ত্রী ক্যাথরিন অব অ্যারাগনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদে পোপের অস্বীকৃতি ছিল এর সূচনা।

রাজা হেনরির উদ্দেশ্য ছিল পুরুষ উত্তরাধিকারী পাওয়া, তবে এর পেছনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত ছিল। রাজা তখন চার্চের বিশাল সম্পত্তি ও ক্ষমতার ওপর দখল নিতে চেয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে রাজা চার্লস পোপের বাঁ পাশে বসেন, বেদির কাছাকাছি। প্রার্থনায় অংশ নেয় সিস্টিন চ্যাপেল ও রাজকীয় কয়ার। অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন পোপ লিও ও অ্যাংলিকান আর্চবিশপ স্টিফেন কট্রেল।

ভ্যাটিকান সফরে থাকা রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা পরে যান সেন্ট পল আউটসাইড দ্য ওয়ালস বাসিলিকাতে। সেখানে পোপ লিও রাজাকে ‘রয়্যাল কনফ্রাটার’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং রাজাদের জন্য সংরক্ষিত একটি বিশেষ আসন প্রদান করেন। আসনে খোদাই করা লাতিন বাক্য — “Ut unum sint” (যেন তারা এক হয়)।

অন্যদিকে, রাজাও পোপকে দু’টি ব্রিটিশ সম্মান দেন— প্যাপাল কনফ্রাটার অব উইন্ডসর এবং অর্ডার অব দ্য বাথের নাইট গ্র্যান্ড ক্রস।

অ্যাংলিকান প্রতিনিধি বিশপ অ্যান্থনি বল বলেন, “এই সম্মান দুই চার্চের যৌথ ভবিষ্যৎ গঠনের প্রতীক।”

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানটি শুধু ঐতিহাসিক প্রতীক নয়, বরং ১৯৬০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া অ্যাংলিকান-ক্যাথলিক সংলাপের বাস্তব রূপ।

বিশ্বজুড়ে ১৪০ কোটি সদস্যের ক্যাথলিক চার্চ ও ৪৬টি চার্চ নিয়ে গঠিত অ্যাংলিকান কমিউনিয়নের সম্পর্ক এই মুহূর্তে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ।

ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের ধর্মতত্ত্ববিদ রেভারেন্ড জেমস হকি মন্তব্য করেছেন,

“এক প্রজন্ম আগেও এমন কিছু কল্পনা করা যেত না। আজকের প্রার্থনা ইতিহাসের পুরোনো ক্ষত মুছে দিয়েছে।”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৪-১০-২০২৫ রাত ১২:৬

news image

ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় লিখলেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও পোপ লিও। প্রায় পাঁচ শতাব্দী পর, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) তারা ভ্যাটিকানের সিস্টিন চ্যাপেলে একসঙ্গে প্রার্থনা করেন।

১৫৩৪ সালে রাজা হেনরি অষ্টম ইংল্যান্ডকে রোমান ক্যাথলিক চার্চ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ রাজা ও পোপ যৌথ প্রার্থনায় অংশ নিলেন।

সেই সময় থেকেই ক্যাথলিক ও অ্যাংলিকান চার্চের মধ্যে শত্রুতা ও বিভাজনের সূচনা হয়। হেনরি অষ্টমের স্ত্রী ক্যাথরিন অব অ্যারাগনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদে পোপের অস্বীকৃতি ছিল এর সূচনা।

রাজা হেনরির উদ্দেশ্য ছিল পুরুষ উত্তরাধিকারী পাওয়া, তবে এর পেছনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত ছিল। রাজা তখন চার্চের বিশাল সম্পত্তি ও ক্ষমতার ওপর দখল নিতে চেয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে রাজা চার্লস পোপের বাঁ পাশে বসেন, বেদির কাছাকাছি। প্রার্থনায় অংশ নেয় সিস্টিন চ্যাপেল ও রাজকীয় কয়ার। অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন পোপ লিও ও অ্যাংলিকান আর্চবিশপ স্টিফেন কট্রেল।

ভ্যাটিকান সফরে থাকা রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা পরে যান সেন্ট পল আউটসাইড দ্য ওয়ালস বাসিলিকাতে। সেখানে পোপ লিও রাজাকে ‘রয়্যাল কনফ্রাটার’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং রাজাদের জন্য সংরক্ষিত একটি বিশেষ আসন প্রদান করেন। আসনে খোদাই করা লাতিন বাক্য — “Ut unum sint” (যেন তারা এক হয়)।

অন্যদিকে, রাজাও পোপকে দু’টি ব্রিটিশ সম্মান দেন— প্যাপাল কনফ্রাটার অব উইন্ডসর এবং অর্ডার অব দ্য বাথের নাইট গ্র্যান্ড ক্রস।

অ্যাংলিকান প্রতিনিধি বিশপ অ্যান্থনি বল বলেন, “এই সম্মান দুই চার্চের যৌথ ভবিষ্যৎ গঠনের প্রতীক।”

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানটি শুধু ঐতিহাসিক প্রতীক নয়, বরং ১৯৬০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া অ্যাংলিকান-ক্যাথলিক সংলাপের বাস্তব রূপ।

বিশ্বজুড়ে ১৪০ কোটি সদস্যের ক্যাথলিক চার্চ ও ৪৬টি চার্চ নিয়ে গঠিত অ্যাংলিকান কমিউনিয়নের সম্পর্ক এই মুহূর্তে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ।

ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের ধর্মতত্ত্ববিদ রেভারেন্ড জেমস হকি মন্তব্য করেছেন,

“এক প্রজন্ম আগেও এমন কিছু কল্পনা করা যেত না। আজকের প্রার্থনা ইতিহাসের পুরোনো ক্ষত মুছে দিয়েছে।”