শিরোনামঃ
অক্টোবরে মাঠে গড়াচ্ছে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ক্রিকেট ও ফুটবল আবাসন খাতের বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ: ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজন ব্যবসাবান্ধব নীতি আভানের মৃত্যু: চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান প্রণোদনা ঋণ বিতরণে গতি চান ব্যবসায়ীরা, শর্ত শিথিলের দাবি হালাল ব্যবসা, সৎ লেনদেন ও দ্বিনদারি—কোরআনের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা  জাপান-সিউল-সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারে বাংলাদেশ নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ: গৃহায়ন মন্ত্রী বিচ্ছিন্ন ঘটনা থেকে রাজনীতির নতুন বয়ান চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা জানতে সালমানকে জিজ্ঞাসাবাদ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দুই-তিনটি ফিলিং স্টেশনের দাবি

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ও শিক্ষার নতুন ভাবনা

#
news image

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ২৪ জানুয়ারিকে “আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী এই দিনটি শিক্ষা উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই অগ্রগতির গুরুত্ব তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে পালিত হচ্ছে। এবছর আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের প্রতিপাদ্য— “The Power of Youth in Co-creating Education (শিক্ষা বিনির্মাণে তারুণ্যের শক্তি)”—সময়ের দাবি ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

শিক্ষা কেবল পাঠ্যবই, শ্রেণিকক্ষ বা পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি চলমান সামাজিক প্রক্রিয়া, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক এবং সমাজ সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখে। বর্তমান প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই প্রক্রিয়ায় তারুণ্য শুধু অংশগ্রহণকারী নয় তারা সহ-নির্মাতা। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বেড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্ম নতুন চিন্তা, উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিবর্তনের সাহস নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে কল্পনা করতে সক্ষম।

বিশ্বব্যাপী শিক্ষা এখন নানা সংকটের মুখোমুখি শিক্ষা বৈষম্য, ডিজিটাল ডিভাইড, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার অভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার অসামঞ্জস্য। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, শিক্ষণ-পদ্ধতি উন্নয়ন, প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে তরুণদের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা যুক্ত হলে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও বাস্তবমুখী ও ভবিষ্যত উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। এই বিশাল জনশক্তিকে কেবল পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষায় আবদ্ধ রাখলে সম্ভাবনার অপচয় হবে। প্রয়োজন এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা, যা তরুণদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেবে, সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহ প্রদান এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে তাদের সম্পৃক্ত করা সময়ের দাবি।

একই সঙ্গে রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের দায়িত্ব তরুণদের জন্য নিরাপদ, ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। শুধু সুযোগ তৈরি করলেই হবে না; তরুণদের সেই সুযোগ কাজে লাগানোর সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তি সুবিধা এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় শিক্ষা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এবছরের প্রতিপাদ্য অনুযায়ী, যদি আমরা সত্যিকার অর্থে তরুণদের শিক্ষা বিনির্মাণের অংশীদার করতে পারি, তবে শিক্ষা হবে আরও জীবন্ত, প্রাসঙ্গিক ও পরিবর্তনমুখী। তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়েই গড়ে উঠতে পারে এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা, যা শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্যও প্রস্তুত প্রজন্ম তৈরি করবে।

মো. সাজ্জাদুল ইসলাম

লেখক ও কলামিস্ট অফিসার ব্র্যান্ড,কমিউনিকেশন ও পিআর সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটি।

বিজ্ঞপ্তি

২২-১-২০২৬ বিকাল ৭:১

news image

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ২৪ জানুয়ারিকে “আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী এই দিনটি শিক্ষা উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই অগ্রগতির গুরুত্ব তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে পালিত হচ্ছে। এবছর আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের প্রতিপাদ্য— “The Power of Youth in Co-creating Education (শিক্ষা বিনির্মাণে তারুণ্যের শক্তি)”—সময়ের দাবি ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

শিক্ষা কেবল পাঠ্যবই, শ্রেণিকক্ষ বা পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি চলমান সামাজিক প্রক্রিয়া, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক এবং সমাজ সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখে। বর্তমান প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই প্রক্রিয়ায় তারুণ্য শুধু অংশগ্রহণকারী নয় তারা সহ-নির্মাতা। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বেড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্ম নতুন চিন্তা, উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিবর্তনের সাহস নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে কল্পনা করতে সক্ষম।

বিশ্বব্যাপী শিক্ষা এখন নানা সংকটের মুখোমুখি শিক্ষা বৈষম্য, ডিজিটাল ডিভাইড, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার অভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার অসামঞ্জস্য। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, শিক্ষণ-পদ্ধতি উন্নয়ন, প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে তরুণদের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা যুক্ত হলে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও বাস্তবমুখী ও ভবিষ্যত উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। এই বিশাল জনশক্তিকে কেবল পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষায় আবদ্ধ রাখলে সম্ভাবনার অপচয় হবে। প্রয়োজন এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা, যা তরুণদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেবে, সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহ প্রদান এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে তাদের সম্পৃক্ত করা সময়ের দাবি।

একই সঙ্গে রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের দায়িত্ব তরুণদের জন্য নিরাপদ, ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। শুধু সুযোগ তৈরি করলেই হবে না; তরুণদের সেই সুযোগ কাজে লাগানোর সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তি সুবিধা এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় শিক্ষা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এবছরের প্রতিপাদ্য অনুযায়ী, যদি আমরা সত্যিকার অর্থে তরুণদের শিক্ষা বিনির্মাণের অংশীদার করতে পারি, তবে শিক্ষা হবে আরও জীবন্ত, প্রাসঙ্গিক ও পরিবর্তনমুখী। তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়েই গড়ে উঠতে পারে এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা, যা শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্যও প্রস্তুত প্রজন্ম তৈরি করবে।

মো. সাজ্জাদুল ইসলাম

লেখক ও কলামিস্ট অফিসার ব্র্যান্ড,কমিউনিকেশন ও পিআর সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটি।